বাবার দ্বিতীয় বিয়ের ছবি দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেন মেয়ে
অভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে অভিযোগ করেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবার দ্বিতীয় বিয়ের ছবি দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাবার দ্বিতীয় বিয়ের খবর তিনি প্রথম জানতে পারেন সম্পূর্ণভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।
“সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই জানতে হল আমার বাবা কী করছে”
হিরণের মেয়ের কথায়,
“আমি মেয়ে হয়ে আর কী বলব! মা আমাকে ফোন করে বলেছিল, ফোনটা খুলে দেখ। খুলে দেখি বাবার বিয়ের ছবি নিজের চোখের সামনে। মা আমার পাশে বসে কাঁদছে। আমি কিছুই জানতাম না। সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই জানতে হল আমার বাবা কী করছে।”
বন্ধুদের বাবাদের দিকে তাকিয়ে নিজের বাবাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসার কথাও জানান তিনি। বাবার উদ্দেশে তাঁর সোজাসাপ্টা বার্তা—
“You failed as a father and as a husband, all together.”
বয়স নিয়ে বিতর্ক ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগ
এদিকে এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘স্ত্রী’ হিসেবে পরিচিত অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অভিযোগকারী তরুণী ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের বয়স সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিচ্ছেন।
“ও যদি মনে করে আমরা ভুল বলছি, তাহলে প্রমাণ করুক”
অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় বলেন,
“ও যদি মনে করে আমরা ভুল বলছি, তাহলে প্রমাণ করুক। বার্থ সার্টিফিকেট দেখাক। আমি ওর মা নই, দিদিও নই। হিরণই আমাকে বলেছে ওর বয়স কত। এখন উল্টে আমাদের ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, তিনি আইনি পথে হাঁটছেন এবং থানায় সমস্ত প্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছে।
“২৫ বছরের দাম্পত্যের পর পুলিশে এসে বলতে হচ্ছে—আমাদের বিয়ে এখনও আছে”
অনিন্দিতার বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের প্রসঙ্গ ও বর্তমান পরিস্থিতির লজ্জাজনক অভিজ্ঞতা।
মেয়ের সামনে ভাঙনের ছবি, অনুতপ্ত অনিন্দিতা
অনিন্দিতা বলেন,
“২৫টা বছর বিয়ে করেছি। আজ পুলিশে এসে বলতে হচ্ছে আমাদের বিয়ে এখনও আছে—এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে? আমার মেয়ে পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। এই জীবন ওকে দিতে চাইনি।”
তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত তরুণী বিয়ে ও সংসারের বাস্তবতা বোঝেন না এবং কেবল বিদেশ ভ্রমণ ও সিঁদুর পরলেই বিবাহিত জীবন সম্পূর্ণ হয়—এমন সরল ধারণা পোষণ করেন।
আত্মহত্যার হুমকি ও মেসেজের অভিযোগ
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে আত্মহত্যার হুমকি সংক্রান্ত। অনিন্দিতার দাবি, হিরণ চট্টোপাধ্যায় নিজে তাঁর মেয়েকে পাঠানো মেসেজে জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট তরুণী তাঁকে আত্মহত্যার কথা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।
“আমি সুইসাইড করতে যাচ্ছি”—স্ক্রিনশট থাকার দাবি
অনিন্দিতা বলেন,
“আমার কাছে স্ক্রিনশট আছে। ‘আমি সুইসাইড করতে যাচ্ছি’—এই মেসেজ পাঠানো হয়েছিল। বারবার এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
ব্যাংকক সফর, একসঙ্গে থাকা ও ফ্ল্যাট কেনার দাবি
অনিন্দিতা আরও দাবি করেন, গত কয়েক মাস ধরে তাঁরা তিনজন একসঙ্গে থেকেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও যৌথভাবে নিয়েছেন।
ব্যাংকক ট্রিপ ও যৌথ ফ্ল্যাটের অভিযোগ
অনিন্দিতার বক্তব্য,
- হিরণ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে পাঁচ মাস একসঙ্গে থেকেছেন
- তিনজন মিলে ব্যাংককে গিয়ে জন্মদিন কাটিয়েছেন এবং সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও পোস্ট করা হয়েছে
- তাঁদের তিনজনের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে
তিনি প্রশ্ন তোলেন—
“ডিভোর্স হওয়া কোনও স্ত্রীর নামে কেউ ফ্ল্যাট কেনে না।”
অনিন্দিতার অভিযোগ, ফ্ল্যাটটি লোনের মাধ্যমে কেনা হয়েছে এবং সেই লোনে তাঁর মেয়ের নামও যুক্ত রয়েছে।
আইনি লড়াই শুরু
এই গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ জমা পড়েছে থানায়। অনিন্দিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি পথে মেটাতে চান।
“আমরা আইনি পথেই যাব”
তিনি বলেন,
“আমরা আইনি পথেই যাব। ও যদি মনে করে সবকিছু ইলিগাল, তাহলে লিগ্যাল স্টেপ নিক। ডিভোর্স হয়ে গেলে তারপর কে কাকে বিয়ে করবে, সেটাও দেখা যাবে।”
উপসংহার
একদিকে বাবার বিরুদ্ধে মানসিক আঘাতের অভিযোগ তুলছেন মেয়ে, অন্যদিকে ব্ল্যাকমেলিং, মিথ্যা তথ্য ও মানসিক হেনস্থার পাল্টা অভিযোগ তুলছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়।
পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক মর্যাদা ও আইনি জটিলতার এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা জানতে এখন রাজ্যের চোখ আইনের রায়ের দিকেই।



