আলাউদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক দাবি হুমায়ুন কবিরের: ‘এটা আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন’

হুমায়ুন কবিরের বিস্ফোরক অভিযোগ

সাংবাদিক বৈঠকে কী বললেন হুমায়ুন কবির

আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে হুমায়ুন কবির স্পষ্ট জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এই বৈঠকে আসেননি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নেতার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন,

“আমি ১৯৮২ থেকে ২০১২ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর কংগ্রেস করেছি। কিন্তু এই কংগ্রেস আর ভবিষ্যতে করা সম্ভব নয়।”

প্রার্থী দেওয়া ও জোট প্রসঙ্গে কী ইঙ্গিত

বসিরহাট সংলগ্ন এলাকায় প্রার্থী দেওয়া হবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এখনই কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা জানাতে চান না।

তবে তিনি ইঙ্গিত দেন,

“গোটা রাজ্যের ২৯৪টি আসনে কোন কোন দলের সঙ্গে জোট হবে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

আলাউদ্দিনের মৃত্যু—খুন না আত্মহত্যা?

আলাউদ্দিনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ হুমায়ুন কবির।
তাঁর সরাসরি অভিযোগ, এটি রাজ্য সরকার ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকারের একটি সাজানো চক্রান্ত।

তিনি বলেন,

“একজন মানুষ তার তিন বছরের বাচ্চা মেয়েকে রেখে হকারি করতে গিয়েছিল। তার সংসারে কোনও সমস্যা ছিল না। তাকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাঁর দাবি, যদি এটি আত্মহত্যা হত, তাহলে রিপোর্ট প্রকাশে কেন এত দেরি করা হল।

পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যু নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, একের পর এক পরিযায়ী মুসলিম শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে জুয়েল রানা, আলাউদ্দিন ও আনিসুর রহমানের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।

তাঁর বক্তব্য,

“এইসব ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবটা অন্য।”

বেলডাঙা উত্তাল ও অবরোধ প্রসঙ্গ

বেলডাঙায় হওয়া অবরোধ ও উত্তেজনা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, তিনি নিজে অবরোধ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
জাতীয় সড়ক অবরোধে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হয় বলেও স্বীকার করেন তিনি।

তিনি বলেন,

“সাত ঘণ্টা অবরোধে কোনও বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হয়েছে।”

মাঠ না দেওয়ার অভিযোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা

হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, ১ ফেব্রুয়ারির সভার জন্য তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রশাসন মাঠ দিতে অস্বীকার করে।

তাঁর দাবি,

“দশ লক্ষ মানুষের সভা শহীদ মিনারে করা সম্ভব নয়।”

তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ

তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন হুমায়ুন কবির।
মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ভাইপোর মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন,

“আমি গদ্দার নই। তোমরাই কংগ্রেসের সঙ্গে গদ্দারি করেছ।”

তিনি বেলডাঙা ও রেজিনগরে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন এবং ভোটের লড়াইয়ে নামার হুঁশিয়ারি দেন।

বসিরহাট নিয়ে কী পরিকল্পনা

বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা বিধানসভা এলাকাগুলিতে তাঁদের সংগঠনের কর্মসূচি হবে বলে জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি দাবি করেন, সেখানে মানুষের সাড়া ক্রমশ বাড়ছে।

উপসংহার

হুমায়ুন কবিরের এই সাংবাদিক বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
আলাউদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে প্রশাসনিক রিপোর্ট ও রাজনৈতিক দাবির মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হচ্ছে।
আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।